গল্পঃ অভিনয়, লেখকঃ মোঃ আফজালুর রহমান। বই বিপণী বিডি।

Polish_20210709_084232287

গল্পঃ অভিনয়

তারিনের অভিনয় এতটাই নিপুণ ছিল যে, সারাদিন তার সাথে থেকেও আমি এতটুকু বুঝতে পারিনি, যে তার জীবণে আমি ছাড়া অন্য কেও আছে।তারিন মাঝেমধ্যেই আমাকে বলতো যে, সে আমাকে অনেক আগে থেকেই ভালবাসতো কিন্তু তা কখনই সে আমাকে বলার সাহস পেতো না।সে কেবলমাত্র আমাকেই চায় আর কিছুই না।
অভিনয় যে এতটা নিপুণতার সাথে করা যায় তা আমার আগে জানা ছিল না।একদিন সকালে কল দিয়ে কান্না শুরু করলো তারিন। আমি খুব অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম কি হইছে কান্না কর কেন?।তারিনের কান্না আরো বেড়ে গেলো। কান্না ভেজা গলায় বল্ল আমার ঘড়িটা হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেছে, চলছে না।আমি হেসে বললাম তো কি হইছে এর জন্য কি কেও কান্না করে?। তারিনের কান্না আরো বেড়ে গেলো।সে বল্ল ঘড়িটা তুমি কিনে দিয়েছিলে, দুইজনের এক রকম ঘড়ি। এখন আমারটা চলছে না।আমি তাকে শান্তনা দিয়ে বললাম আরে তুমাকে কান্না করতে হবেনা নতুন ব্যাটারি লাগালেই ঠিক হয়ে যাবে। তুমি আমাকে দিও আমি ঠিক করে দিবো। তারিনের খুব সখ ছিল রেল লাইনে আমরা পাশাপাশি হাত ধরে হাটবো। বাসে করে আমরা অনেক দূর যাবো, সে আমার কাধে মাথা রেখে ঘুমাবে।আমি তার কোনো ইচ্ছা বাকি রাখিনি সব পূরন করেছি।
তারিন সব সময় আমাকে বলতো তোমার পরিবার কি আমাকে মেনে নিবে?।আমি তারিনের মাথাটা আমার বুকে রেখে বলতাম আমি আছি তো এতো ভয় কিসের?।
যখন আমাদের কথাটা আমার বাসায় জানে তখন আমি অনেক কষ্টে সব ঠিক করেছিলাম। বাসায় কেও রাজি ছিল না। আমার লেখাপড়া শেষ হয়নি,চাকরি নেই।আমি সবাইকে এটা বলে রাজি করাই যে আমি একটা চাকরি নিয়ে তারপর তারিন কে বিয়ে করবো।
একদিন আমি তারিন কে বলেছিলাম আমার জীবনে দুইটা ভালবাসা এক হচ্ছে তারিন অন্যটি হচ্ছে আমার লেখাপড়া। তারিন তখন কান্না করে বলেছিল তাহলে আমার লেখাপড়া?।বিয়ের পর কি তোমার পরিবার আমাকে পড়তে দিবে?। আমি তারিনের কপালে চুমু একে দিয়ে বলেছিলাম আমি যতদূর লেখাপড়া করবো তোমাকেই ঠিক ততটুকুই আমি পড়াবো।
তারিনের সব চাইতে বড় অস্ত্র ছিল তার চোখের পানি যা আমার কখনই সয্য হত না। তার চোখে পানি দেখলে আমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারতাম না।পারতাম না আর কোনো কথা বলতে। তাই সবসময় জয়টা তারই ছিল।
যেদিন প্রথম অন্য একটা ছেলের সাথে আমি তারিনকে দেখি তখন খুব কষ্ট হচ্ছিল। সেদিন তারিনের ব্যাপারে আরো অনেক কথা শুনি যার কিছু আগে শুনলেও তা কখনই বিশ্বাস করিনি। নিজেকে সেদিন এতটাই অসহায় লাগছিল যা আগে কোনোদিন লাগেনি। সারাটা বিকেল রুমে বন্ধি হয়ে ছিলাম।তারিনের সেদিনের ব্যবহারটা ছিল খুব স্বাভাবিক যেন কিছুই হয়নি।সে যা করছে বা করেছে তা ভুল কিছুই না।
সন্ধ্যায় লোকালয়ের শেষ প্রান্তে একা,একা গিয়ে বসি।বসে থাকি গভির রাত অব্ধি।সেদিন হয়তো আমাকে নিয়ে কোনো ভাবনাই কাজ করেনি তার।সেদিন সে সবাইকে নিয়ে বিকেল থেকে রাত অব্ধি শপিং এ ব্যস্ত ছিল।আমি অনেক গুলি মেসেজ দিলেও তার রিপ্লাই আসেনি।
অনেক রাত পর্যন্ত জনমানবহীন জায়গায় বসে থেকে আমার মনে হয়েছিল যে আমার বেচে থাকার কোনো মানে হয়না। যার ভালবাসার মানুষ একাধিক ছেলের সাথে সম্পর্ক রাখে। যার প্রেয়সীর ভালবাসা শুধু মিথ্যে ছলনা ছাড়া কিছুই না। আমার একাকিত্ব, খারাপ লাগা যার কাছে কিছুইনা তার সাথে থাকা যায়না।কিন্তু এতটা ভালবাসতাম তারিন কে যে, তাকে ছাড়া থাকার কথা কল্পনাও করতে পারতাম না।
তখন নিজেকে শেষ করার চিন্তা করি।যেই ভাবা সেই কাজ।বাসায় এসে ঘুমের ট্যাবলেট খাই। যখন নিজেকে ধরে রাখতে পারছিলাম না তখন আমার এক বন্ধু আমাকে কল দেয়।আমার কথা শুনে তার সন্দেহ হয়,সে ছুটে আসে আমার রুমে। যখন আমার জ্ঞান ফিরে তখন আমি হাসপাতালের বিছানায় শুয়া।পরেরদিন সকালে তারিন আমাকে দেখতে হাসপাতালে যায়।আমার মাথা তার বুকে রেখে তার সেই অস্ত্র চোখের পানি ফেলে। আমি আবারও সব ভুলে তাকে মাফ করে বুকে টেনে নেই।তারিন সেদিন আমাকে বলেছিল সে ভুল করেছে কিন্তু সে আমাকে ছাড়া বাচবেনা। সে সারাজীবন আমার পায়ের নিচে পরে থাকতে চায়।তারিন আমাকে বলে যে সে তার বাসায় সব বলেছে আমি যেন তার মায়ের সাথে দেখা করি।
আমিও সব ভুলে তার কথা,চোখের পানি কে বিশ্বাস করে তাকে আবারও বুকে টেনে নেই।কি করবো ভালবাসি যে তাকে।যখন তার মায়ের কাছে যাবো তার আগে তারিন আমাকে বলেছিল তুমি শুধু মাকে আমাদের বিয়ের কথাটা বলবে। বাকি সব আমি বলবো মা তুমাকে খালি হাতে ফিরাবে না।আমি যখন তারিনদের বাসায় যাই তার মায়ের ব্যবহার ছিল অন্যদিন থেকে আলাদা।কথা শুরু করতেই তারিন চলে যায় অন্য রুমে আর আসেনি বলেনি কোনো কথা।তারিনের মা আমাকে রিতিমত অপমান করে সেদিন।আমার চাকরি নেই, টাকা নেই বলে।সেদিন অনেকদিন পর আমি কেঁদেছিলাম।কেদে কেদে ফিরে এসেছিলাম খালি হাতে।তারিনকে ফোণ দিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম সে কি করবে?। সে আমাকে বলেছিল যে সে তার পরিবারের বড় মেয়ে পরিবারের বাইরে সে যেতে পারবেনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

X

Main Menu

Send this to a friend